বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা নামল ফার্মা ক্যারিয়ার এক্সপোর

বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা নামল ফার্মা ক্যারিয়ার এক্সপোর

ক্যাম্পাস ডেস্ক

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ২ দিনব্যাপী ‘ডিআইইউ ফার্মা ক্যারিয়ার এক্সপো ২০১৯ : দশ বছর পূর্তি’ উৎসব আজ  ২৮ এপ্রিল শেষ হয়েছে।  ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগ ২৭-২৮ এপ্রিল ২০১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ মিলনায়তনে এ ক্যারিয়ার এক্সপো’র  আয়োজন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব (সেবা) জনাব মো. আসাদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মইন উদ্দিন মজুমদার। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাইড হেলথ সায়েন্সস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ ইসমাইল মোস্তাফা ও ফার্মেসি বিভাগের প্রধান শরীফ মো. শাহীন।

দুই দিনব্যাপী ফার্মা ক্যারিয়ার ফেস্টে ছিল বাংলাদেশে ঔষধপণ্য ব্যবস্থাপনা, ঔষধ খাতে পেশাগত নিয়োগ প্রাপ্যতা, সঠিক পেশা নির্বাচন বিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা, ক্যারিয়ার বিষয়ক কথামালা ও প্রদর্শনী। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৫ টি ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এ ক্যারিয়ার ফেস্টে অংশগ্রহণ করেছিল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঔষধ প্রশাসনের মহাসচিব মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে ঔষধ শিল্প। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই খাত থেকে ২০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা এসেছিল আর ২০১৭-১৮ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬০০ কোটি টাকা। এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগও প্রচুর। একজন ফার্মেসি গ্রাজুয়েট মার্কেটিং, সেলস থেকে শুরু করে ওষুধ উৎপাদন, সাপ্লাই চেইন ইত্যাদি বিভাগে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। এজন্য তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফার্মেসি পড়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিদিন কিছু না কিছু শিখতে হবে। শেখার কোনো শেষ নেই। ক্যারিয়াওে সফল হতে হলে শিখন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদেরকে ওষুধ শিল্প নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মুঈন উদ্দিন মজুমদার বলেন, ফার্মেসির ক্যারিয়ার শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বাইরেও বিস্তৃত। বাংলাদেশের অনেক মেধাবী তরুণ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের ফার্মেসী সেক্টরে উচ্চপদে চাকরি করছেন। দেশের ভেতরেও ফার্মেসি সেক্টরে চাকরির সুযোগ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মো. মুঈন উদ্দিন মজুমদার বলেন, ফার্মেসি সেক্টওে ক্যারিয়ার গড়লে ক্যারিয়াওে দ্রæত উন্নতি করা যায়। নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তিনি অফিসার পদে চাকরিতে প্রবেশ করে এখন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মুঈন উদ্দিন মজুমদার বলেন, ফার্মেসি সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে হলে এখনই লক্ষ্য স্থির করতে হবে। এই সেক্টরে গবেষক হওয়ার যেমন সুযোগ রয়েছে তেমনি রয়েছে মানবসম্পদ ম্যানেজার হওয়ারও সুযোগ। তাই শিক্ষার্থীদের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কোন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়বেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদেরকে টিম ওয়ার্ক, শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বস্ততা ও সাহসের চর্চা করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply