আমরাই গড়ব বাংলাদেশ

আমরাই গড়ব বাংলাদেশ

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

দুই দিন বাদেই বাংলাদেশ পূর্ণ করতে যাচ্ছে বিজয়ের ৪৬তম বছর। এতটা পথ পেরিয়ে এসে কী অর্জন করল বাংলাদেশ কিংবা কী সম্ভাবনা জাগিয়ে রেখেছে তার সোপানতলে, এসব নিয়ে আলোচনা করে ওরা। ওরা মানে সাজিদ, রায়না, মেহনাজ, ফারজানা, অভিক, শোভন, দেবাশীষ, সুস্ময় ও দীপ্তি।

ছোটবেলার বন্ধু এরা। একসঙ্গে একই স্কুলে পড়েছে। তারপর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একেকজন একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ জাহাঙ্গীরনগরে, কেউ জগন্নাথে, কেউ বা আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু বন্ধুত্বটা রয়ে গেছে এখনো অটুট। ফোনে-ফেসবুকে নিত্যই যোগাযোগ হয়। সময়-সুযোগ মিলিয়ে আড্ডাও জমিয়ে তোলে এ তরুণদল। শুক্রবারের ছুটিতে সবাই মিলে ঘুরতে এসেছে রায়েরবাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের দেয়ালের ওপাশে তখন হলুদ রঙের সূর্য। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা আসি-আসি মুহূর্তে রোদের তেজ কমে এলেও আলোচনার উত্তাপ কমে না। গায়ের চাদরটা আর একটু শক্ত করে শরীরে জড়াতে জড়াতে অভিক বলে, ‘তোরা যে যা-ই বলিস ন কেন, বাংলাদেশ কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০তম বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবেই হবে।’

মেহনাজের চোখ তখন স্মৃতিসৌধের দেয়ালের জানালা দিয়ে সুদূরে সমর্পিত। সেদিক থেকে চোখ না ফিরিয়েই বলে, আমার বিশ্বাস স্বাধীনতার ৫০তম বছরে গিয়ে ‘তুই রাজাকার’বলে গালি দেওয়ার মতো একজনকেও খুঁজে পাব না আমরা। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের শক্তি বলেও কোনো বিভাজন থাকবে না দেশে। আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে বিজয়-উৎসব পালন করতে পারব।’

এর মধ্যে উত্তরে হাওয়া একটু একটু কাঁপন ধরায় ওদের শরীরে। ফারজানা খুক খুক করে কাশছে দেখে দেবাশীষ তার লাল-সবুজ মাফলারটা ফারজানার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, তোর কী মনে হয়? ফারজানা গলায় মাফলার জড়াতে জড়াতে বলে, আমাদের পূর্বপ্রজন্ম যাঁরা এ দেশটা স্বাধীন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মদান বৃথা যেতে পারে না। নিশ্চয় এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক আর নিরপেক্ষ ইতিহাসও লেখা হয়ে যাবে। তখন পরবর্তী প্রজন্ম আর বিভ্রান্ত হবে না কিছুতেই।’

রায়না সায় দেয় এদের কথায়। বলে, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠবে আমাদের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও আগামী প্রজন্ম।’

ওদিকে শোভন, সুস্ময় ও দীপ্তি দুহাতকে ফ্রেম বানিয়ে কী যেন আলোচনা করছে। অন্যরা এবার মনোযোগী হয় ওদের দিকে। শোভন বলছে, ‘আমাদের বুদ্ধিজীবী হত্যা আর গণহত্যা নিয়ে এমন এক প্রামাণ্যচিত্র বানাব, পুরো বিশ্ব তাক লেগে যাবে।’

‘সাহিত্য আর শিল্পকলায়ও ছাড় দেওয়া চলবে না। এ ক্ষেত্রেও আমরা হব বিশ্বসেরা। আমরাই গড়ব বাংলাদেশ।’ সুস্ময় গলা মেলায় এদের সঙ্গে।

ওদিকে হঠাৎ গলায় আওয়াজ তোলে সাজিদ ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, সে যে কারও দামে কেনা নয়…।’

‘অবশ্যই। অবশ্যই।’ দুহাত মুষ্টিবদ্ধ করে প্রত্যয় জানায় দীপ্তি, ‘এত সংগ্রাম আর এত রক্তের বিনিময়ে যে জাতি স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সে জাতি পিছিয়ে থাকতে পারে না। আমরা অবশ্যই শিক্ষা-দীক্ষা আর জ্ঞান-বিজ্ঞানে পৃথিবীর সেরা জাতিতে পরিণত হব। বিজয়ের মাসে এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

সব বন্ধু এবার একসঙ্গে হাতে হাত রেখে শপথ নেয় কাঁধে কাঁধ রেখে দেশ গড়ার। ওদের রক্তে যেন দামামা বেজে ওঠে। মুহূর্তে শীতের হিম কুয়াশা হার মানে এ তারুণ্যের কাছে। আগামীকাল যে সূর্যোদয় হবে তার সবটুকু আলো এরা নিজের করে নেবে।

সূত্র: প্রথম আলো

Leave a Reply