শিক্ষার্থীর জীবন বাচাঁতে শিক্ষকদের কনসার্ট

শিক্ষার্থীর জীবন বাচাঁতে শিক্ষকদের কনসার্ট

  • ক্যাম্পাস ডেস্ক

এক জন শিক্ষার্থী, এক জন শিক্ষক, একটি বই এবং একটি কলম বদলে দিতে পারে পুরো পৃথিবীকে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক কখনো শুধু ক্লাসে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ কথাটিই আবার প্রমাণ করলেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচাতে তারাও এগিয়ে এসেছেন, সৃষ্টি করেছেন এক অপরূপ দৃষ্টান্ত।

গত ১২ জানুয়ারি তামান্না তার মাকে গাড়িতে তুলে দিতে গিয়ে গাবতলীতে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। পেছন থেকে একটি বাস এসে তার কোমরের উপর দিয়ে চলে যায় এবং টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় কিছু দূর। তামান্নার প্রকট আর্তনাদ বাস চালকের মন নরম করতে পারেনি। দুর্ঘটনায় ওর মেরুদণ্ডের নিচের অংশ ভেঙে গেছে, বাম কানটা একেবারেই নেই। হাসপাতালের ২০০ নাম্বার ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে তামান্না ইসলাম। পাশে মা ডুকরে কাঁদছেন, বাবা লুকিয়ে চোখের পানি মুছে যাচ্ছেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্নাকে চিকিৎসকরা খুব দ্রুত ভারতের বেঙ্গালুরে চিকিৎসা নিতে বলেছেন। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার। তাই শিক্ষার্থীর প্রাণ বাচাঁতে নিজ অর্থে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় ক্যাম্পাসের ৭১ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত  এ অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা নাচ ও গানের কনসার্টের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এম এম হামিদুর রহমান অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ চিকিৎসার জন্য তামান্নার বাবার হাতে তুলে দেন তাঁরা। এ বিষয়ে স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু বলেন ‘সন্তান ও শিক্ষার্থীদের জন্য বাবা-মা এবং শিক্ষকরা পারে না এমন কিছু নেই।’

উল্লেখ্য, উন্নত চিকিৎসার জন্য তামান্না ইসলামের আজ (বৃহস্পতিবার) ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

Leave a Reply