ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড এলো যেভাবে

ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড এলো যেভাবে

  • ফিচার ডেস্ক

লবণ ছাড়া তরকারি আর বন্ধু ছাড়া জীবন…। স্বভাবচরিত্রে দুজন হতে পারে একেবারে যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়া। তবু বন্ধুত্ব হয়ে যায়। দুজন বাঁধা পড়ে এক অদৃশ্য বাঁধনে। আর ওই বাঁধনটাকে প্রতীকী অর্থে বোঝাতে আছে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড।

গোড়ার গল্প

১৯৭০ সালে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড চালু হয়। ওই সময় পশ্চিমা বিশ্বে বন্ধুদিবসে বন্ধুর হাতে ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড’ পরিয়ে দেওয়া হতো। যত বন্ধু তত ব্যান্ড। মধ্য আমেরিকার দেশগুলোই প্রথম ওই ব্যান্ডের মধ্যে নকশার প্রচলন ঘটায়।

পরে এশিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়ে ব্যান্ড পরার ধুম। বাংলাদেশে চালু হয়েছে বেশিদিন হয়নি। অবশ্য সেটিও কয়েক দশক তো হবেই। এখনো এর দারুণ জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে টিনএজাররা তো এই ব্যান্ড কিছুতেই মিস করে না।

সরকারি বাঙলা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম সৌরভ বলেন, বন্ধু দিবসে আমার প্ল্যান সব বন্ধুকে উইশ করা। জম্পেশ আড্ডা, ফ্রেন্ডশিপ বেল্ট, ব্যান্ড আর কার্ড আদান-প্রদানও হবে। তবে আমাদের প্ল্যান হলো, কিছু টাকা বাঁচিয়ে অসহায় ও দরিদ্রদের খাওয়াব।

নেভি এঙ্করেজ ঢাকা স্কুলের শিক্ষার্থী ফারজানা খান লোভা উত্সুক হয়ে আছে দিবসটির জন্য। তার কাছে বন্ধু হচ্ছে যাকে ভরসা করা যায়। যে পাশে থাকলে পাঁচ ঘণ্টাও মনে হয় পাঁচ মিনিট। তার মতে, বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেকটা অক্সিজেনের মতো। ভুলগুলোকে শুধরে দেয়। ‘এই বন্ধু দিবসে আমি আমার বন্ধুদের কার্ড দেব আর চকোলেট খাওয়াব। হাতে বানানো কার্ডে উইশ করব এবং প্রতিবছরের মতো এবারও তাদের হাতে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড পরিয়ে দেব।’

ব্যান্ডের রঙের মানে

ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের রঙের সঙ্গে আবার অনেক বিষয় জড়িত। একেক রঙের একেক অর্থ। গোলাপি রঙের ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের অর্থ বন্ধুটা দয়ালু, লাল রং মানে সৎ, নীল মানে বিশ্বাসী, কমলা মানে শক্তিসম্পন্ন, সবুজ রং দায়িত্বশীল আচরণ বোঝায় আর হলুদ মানে মজার। কালো রঙের ব্যান্ড মানে ওই বন্ধুটা বেশ বলিষ্ঠ।

কোথায় পাবে

বিভিন্ন গিফট শপে এই ব্যান্ড পাওয়া যায়। আর্চিস, হলমার্ক তো আছেই, পাবে  নিউ মার্কেট, ইস্টার্ণ প্লাজা ও তার সামনের বেশ কয়েকটি দোকানে। পুরান ঢাকায় সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় ব্যান্ড পাবে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার চকবাজারে। দাম নিয়ে চিন্তা নেই। খুব বাহারি আর গুণমানসম্পন্ন হলেও দাম ১৫০ টাকার বেশি নয়।

আর যারা নিজের হাতে তৈরি করতে চাও, তারা পছন্দের রঙের ৩-৪টি মোটা সুতো নাও। মাঝখানে ভাঁজ দিয়ে ডাবল করে নাও। এক ইঞ্চি সুতা ফাঁকা রাখবে। পরে গিঁট দিয়ে ২টি করে সুতা নিয়ে বিনুনি করবে। তিন ইঞ্চির মতো বিনুনি করা হলে ভালোভাবে গিঁট দিয়ে নেবে এবং এক ইঞ্চি সুতা বাড়তি রেখে দেবে। ওই এক ইঞ্চি দিয়েই যে বাঁধতে হবে বন্ধুত্বের চূড়ান্ত গিট্টু!

সূত্র: কালের কণ্ঠ

Leave a Reply