মৎস্য অধিদপ্তরে চাকরির হাতছানি

মৎস্য অধিদপ্তরে চাকরির হাতছানি

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

ক্যারিয়ার নিয়ে সকলেই কম বেশি চিন্তিত। কর্মজীবনে প্রবেশের আগে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে—আমার ক্যারিয়ার কেমন হবে? আমি বেকার থাকব না কি? এমন হাজারো প্রশ্নের জবাবে মাঝে মাঝে চাকরির বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে প্রত্যাশিদের সামনে হাজির হয় চাকরি দাতা  প্রতিষ্ঠানগুলো। বরাবরের ধারাবাহিকতার অনিয়ম হয়নি এবারও। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মৎস্য অধিদপ্তর লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এবারের এই নিয়োগে ১৯ ধরনের পদে সর্বমোট ২৩০ জনবল নিয়োগ প্রদান করবে। ইতোমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, চলবে ২২ মে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

আবেদনের পদসমূহ

বিজ্ঞপ্তিতে ১৯টি পদে সর্বমোট ২৩০ জন নিয়োগ দেওয়ার তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যে পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হবে তা হলো—সেকেন্ড ড্রাইভার দু’জন, হিসাবরক্ষক ২০ জন, উচ্চমান সহকারী দু’জন, ক্যাশিয়ার তিনজন, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পাঁচজন, লঞ্চ ড্রাইভার একজন, সারেং একজন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১০৮ জন, ইলেকট্রিশিয়ান দু’জন, হ্যাচারি টেকনিশিয়ান ২৩ জন, গাড়ি চালক নয়জন, বাবুর্চি চারজন, অফিস সহায়ক ২৬ জন, গার্ড বা ফার্ম গার্ড নয়জন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঁচজন, ফার্ম গার্ড বা এমএলএসএস চারজন, ডেকহ্যান্ড চারজন, কুক কাম বেয়ারার একজন এবং ফিশারম্যান একজনসহ সর্বমোট ২৩০ জন।

আবেদন যোগ্যতা

ভিন্ন ভিন্ন পদে আবেদনের জন্য যোগ্যতারও প্রয়োজন হবে ভিন্ন ভিন্ন। পদগুলোতে আবেদনের জন্য প্রার্থীর পদমর্যাদা অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পাস থেকে অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। প্রার্থীদের কয়েকটি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য দক্ষতা থাকতে হবে।

আবেদনের নিয়ম

অনলাইনে আবেদনের সুবিধা রয়েছে এবারের নিয়োগে। অনলাইনে আবেদনের সকল নির্দেশনা মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে এবং উল্লিখিত ওয়েব সাইটেই আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।  শুধুমাত্র বর্ণিত ওয়েব সাইটে প্রাপ্ত আবেদনপত্রই বৈধ বলে গণ্য হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২৩ এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০ ঘটিকা থেকে, প্রক্রিয়াটি চলবে ২২ মে ২০১৭ তারিখ বিকাল ৫ ঘটিকা পর্যন্ত। যারা অনলাইনে আবেদন করবেন তাদের আবেদনের প্রিন্টেড কপি, ট্রেজারি চালানের মূল কপিসহ উপ-পরিচালক (প্রশাসন), মত্স অধিদপ্তর, মৎস্য ভবন, রমনা, ঢাকা- ১০০০ বরাবরে ডাকযোগে প্রেরণ করতে হবে। প্রেরিত আবেদনপত্রের খামের উপর পদের নাম, নিজ জেলা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটার নাম উল্লেখ করতে হবে। আবেদনপত্রের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক/ সোনালী ব্যাংক লি. হতে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-১১ নং ক্রমিক পদের জন্য ১০০ (একশত) টাকা এবং ১২-১৯ নং ক্রমিক পদের জন্য ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকা এর অনুকূলে ১-৪৪৩১-০০০০-২০৩১ কোড নম্বরে জমা দিয়ে চালানের মূল কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে। ট্রেজারি চালানের নম্বর, তারিখ, ব্যাংকের নাম ও ঠিকানা অনলাইনে পূরণ করে  ট্রেজারি চালানের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করতে হবে। প্রার্থীর নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ ও জেলাসহ সকল তথ্য সংশ্লিষ্ট সনদে যেমন লেখা আছে অনলাইন আবদনপত্রে ও পরবর্তীতে  হুবহু সেভাবেই লিখতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ আবেদন পত্র কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাতিল বলে গণ্য হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে সকল পদের সংখ্যা কম বা বেশি করতে পারবে এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে পারবে।

বয়সসীমা

আবেদনকারীদের বয়স হতে হবে ২২ মে, ২০১৭ পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা/ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।

যেভাবে আবেদন

আবেদন করতে হবে অনলাইনে। আবেদন ফরম পাওয়া যাবে শুধু মৎস্য অধিদপ্তরের www.fisheries.gov.bd এই ওয়েবসাইটে। এই সাইটে অনলাইনে ফরম পূরণের নির্দেশনাও পাওয়া যাবে। চাইলে সরাসরিও আবেদন করতে পারেন এই ঠিকানায়- উপপরিচালক [প্রশাসন],মৎস্য অধিদপ্তর, মত্স্য ভবন, রমনা, ঢাকা।

যে কাগজপত্র লাগবে

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল মূল সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্র, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/ পৌর মেয়র/ সিটি কর্পেরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত মূল সনদ দাখিল করতে হবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যার পুত্র-কন্যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণিক হিসেবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/ পৌর মেয়র/ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রার্থীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার সম্পর্ক সংক্রান্ত মূল প্রত্যায়নপত্র এবং এতিম ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষার কোটায় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত মূল সনদ দাখিল করতে হবে।favicon59-4

Leave a Reply