পড়তে চাই সমুদ্রবিজ্ঞান

পড়তে চাই সমুদ্রবিজ্ঞান

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

আকাশ আর সমুদ্রের মিশে যাওয়া দিগন্তের দিকে তাকিয়ে ভাবুক হয়ে ওঠেনি, এমন মানুষ পাওয়া বিরল। রহস্যে ঘেরা বিশাল সমুদ্রের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সব সময়ের। পৃথিবীর প্রায় ৭১ শতাংশ জল আর বাকি অংশ স্থল। স্থলভাগ নিয়ে বহু রকম গবেষণা হচ্ছে। কিন্তু বিশাল জলরাশি যে একটা অজানা জগৎ নিয়ে আবিষ্কারের অপেক্ষায় আছে, এই অজানাকে জানার জন্যই সমুদ্রবিজ্ঞান। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমুদ্র বিষয়ে পড়াশোনা বহু আগে থেকেই শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে ‘সমুদ্রবিজ্ঞান’ নামে সমুদ্র গবেষণার এই ক্ষেত্রটি বেশ নতুন। দেশের বিপুল সমুদ্রসম্পদকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর জন্য এ বিষয়ে পড়াশোনার প্রয়োজন। এ ছাড়া বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পরিবহন, টেকসই উন্নয়ন ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রের সঙ্গে সমুদ্র ভীষণভাবে জড়িত।

বাংলাদেশ আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে নির্দিষ্ট সমুদ্রসীমা অর্জন করেছে। এখন এই বিশাল বঙ্গোপসাগরের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন গবেষণা ও দক্ষ জনশক্তি। দেশের প্রথম সমুদ্র বিষয়ে বিশেষায়িত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়। এ বছরই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক কোর্স শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রিয়ার এডমিরাল এ এস এম আব্দুল বাতেন বলেন, ‘সমুদ্রে অনেক প্রাণিজ এবং অপ্রাণিজ সম্পদ রয়েছে। কিন্তু এর সঠিক এবং টেকসই ব্যবহারের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি নেই। তবে আশা করছি, আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারব, যারা সমুদ্র বিষয়ে গবেষণা ও প্রযুক্তি-পরিকল্পনাসহ নানা ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখবে—এমনটাই আমাদের স্বপ্ন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১২ সালে। প্রথমে মাস্টার্স কোর্সের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও ২০১৫ সাল থেকে স্নাতক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান কোর্স শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জেরিন তাসনিম। সমুদ্র নিয়ে পড়তে কেমন লাগে? এর উত্তরে তিনি বললেন, ‘এখনকার সময়ে বাংলাদেশের জন্য এই বিষয়টা তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার সমুদ্র খুব ভালো লাগে। তাই সমুদ্রবিজ্ঞান আমার পছন্দের বিষয়। প্রতিবছর হাতে-কলমে কাজ শেখার জন্য, নমুনা সংগ্রহের জন্য সমুদ্রের কাছে যেতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞরা আসেন, ক্লাস নেন, অভিজ্ঞতার বিনিময় হয়।’

সম্প্রতি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম বর্ষের স্নাতক কোর্স চালু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজের অধীনে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ রয়েছে। তবে সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে চাইলে রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত অর্থাৎ বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো পড়াশোনা থাকতে হবে।
প্রতিবছর ৮ জুন পালন করা হয় বিশ্ব সমুদ্র দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল—আমাদের সমুদ্র, আমাদের ভবিষ্যৎ। সমুদ্রবিজ্ঞানে পড়ুয়া আজকের শিক্ষার্থীদের সামনে অপার সম্ভাবনা। আগামী দিনের সমুদ্র গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।favicon59-4

Leave a Reply