পছন্দ যখন কৃষি

পছন্দ যখন কৃষি

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

অনেকেই বলেন ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারি পড়া বাদ দিয়ে কৃষিতেই বা কেন পড়বো? তাছাড়া দেশের এত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই বা কেন যাবো? এসব চিন্তার আগে একবার ভাবা উচিত কেনই বা পড়বেন না এই কৃষিতে? কৃষি বিষয়ে পড়লে কি চাকরি জুটবে না? নাকি কৃষিতে পড়া গ্রাজুয়েটদের মূল্যায়ন হয় না দেশে? আসলে সমস্যাটা এখানে নয়। সমস্যাটা আমাদের মানসিকতায়।

১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিবিদদের দিয়ে গেছেন প্রথম শ্রেণির মর্যাদা। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররা যেমন দেশে চাকরিতে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পান, তেমনি কৃষিতে স্নাতকোত্তর কৃষিবিদরাও প্রথম শ্রেণির মর্যাদাসম্পন্ন। স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠিত করে ক্ষুধামুক্ত দেশে পরিণত করতে এই কৃষিবিদদের ভূমিকাই ছিলো মুখ্য। সে সময়ের ৭ কোটি মানুষের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দেওয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হলেও বর্তমানে ১৮ কোটি জনগণের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্য বিদেশে রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে। কৃষিবিদদের হাত ধরে তা যে দেশের কৃষিখাতের বৈপ্লবিক উন্নতির ফল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। ময়মনসিংহ শহরের অদূরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাম্পাস। সবুজে ঘেরা প্রকৃতিকন্যাখ্যাত শিক্ষাঙ্গনটিতে পড়তে আসে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থী। সম্পূর্ণ আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতি বছর ১২০০ শিক্ষার্থী ছয়টি অনুষদের অধীনে পড়ালেখার সুযোগ পায়। এর মধ্যে ভেটেরিনারি অনুষদে ১৯১, কৃষি অনুষদে ৪০২, পশুপালন অনুষদে ১৯১, মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদে ১৩৩, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদে ১৫০ এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে ১৩৩টি আসন। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়েও কৃষিতে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত। এছাড়াও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে কৃষি বিষয়ে পড়ার সুযোগ।

কৃষিতে গ্রাজুয়েট হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে-বিদেশে রয়েছে অবারিত চাকরির সুযোগ। বাংলাদেশ কর্ম কমিশনে (বিসিএস) কৃষিবিদেরা টেকনিক্যাল ও সাধারণ উভয় ক্যাডারে আবেদনের সুযোগ পাওয়ায় দেশের সব কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিরি), পাট, ইক্ষু, মসলা, তুলা, চা গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরির সুযোগ। ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে গ্রাজুয়েটরা বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সার্জন পদে যোগদান করতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় গো প্রজনন কেন্দ্র ও দুগ্ধখামার, হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, ছাগল প্রজনন কেন্দ্র, মহিষ প্রজনন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রাণী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরির সুযোগ। মাত্স্যবিজ্ঞান থেকে গ্রাজুয়েটদেরও রয়েছে এমনই অবারিত চাকরির সুযোগ। অন্যদিকে দেশের কৃষি ব্যাংকগুলোতে অগ্রাধিকারসহ দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ রয়েছে এখানকার গ্রাজুয়েটদের।

অনেকে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে নিজেই হয়ে ওঠেন উদ্যোক্তা, গড়ে তোলেন নিজস্ব খামার। শিক্ষাজীবনের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেন অসংখ্য বেকারকে। দেশ ও দশের সেবা এবং সমৃদ্ধ মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেখাচ্ছে আলোর হাতছানি। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগ্রহণ সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত।

সূত্র: ইত্তেফাক

Leave a Reply