অনলাইন ব্যবসায় নারী

অনলাইন ব্যবসায় নারী

  • উদ্যোক্তা ডেস্ক

নুজহাতুল হাচান নুসরাত লাবনী

স্বপ্ন ছিল নিজে কিছু করার। নিজের একটা পরিচয় থাকবে হোক সেটা ছোট বা বড় এ ভাবনা থেকেই উদ্যোগক্তা হওয়ার ইচ্ছে আসে। ২০১০ সালে নিজ উদ্যোগে শুরু করি “তনুকা বুটিক” ভালই চলছিল তখন । ঘরে বসে নিরাপদে অনলাইনে ব্যবসা করা যায় তাই ২০১৪ সালে অনলাইনে তনুকা বুটিকস এর যাত্রা শুরু করি এবং ভাল সাড়া পাই। “তনুকা বুটিক” মূলত হ্যান্ডস্টিচের কাজ করে থাকে। কামিজ, শাড়ি, থ্রিপিস সব কিছুর ডিজাইন নিজে করে থাকি। ভাল মান, কাজের ভিন্নতা ও দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রডাক্টগুলো ভাল চলছে। আমার মূলত দেশীয় প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে সবসময়। আশা আছে খুব তাড়াতাড়ি একটা শোরুম দেওয়ার। আমি আমার ব্যবসা নিয়ে খুবই খুশি। পরিকল্পনা রয়েছে দুস্থ ও অসহায় নারীদের নিয়ে কাজ করার। নিজের উদ্যোগ ও কাজটাকে ভালবেসে মানসম্মত পণ্য নিয়ে অনলাইন বিজনেসে সফল হওয়া সম্ভব বলে মনে করি।

অনিমা চৌধুরী

ইচ্ছে ছিল নিজে কিছু করার, উদ্যোক্তা হওয়ার বিশেষ করে সোস্যাল অ্যাক্টিভিটিস্ট হওয়ার। হঠাতৎ করেই আইডিয়া আসল ঘরে বসে নিরাপদে ব্যবসা করার। এভাবেই “ঘুড়ি” নামে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করি। প্রথমে পরিবার থেকে রাজি না থাকলেও এখন ভালো করায় তারা উত্সাহ দিচ্ছে। আমি মূলত মেয়েদের পোশাক বিশেষ করে কামিজ, শাড়ি, থ্রিপিস নিজস্ব ডিজাইনে করে থাকি। পোশাকের ডিজাইনের ভিন্নতা, কাজের মানের কারণে ও কম দামের হওয়ায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ঘুড়ি রাজশাহী থেকে সারা বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। অনলাইন ব্যবসায় মূলত পণ্যের মান ও দাম ঠিক রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। ইচ্ছে আছে ঘুড়ির অনলাইন লাইফ স্টাইল ম্যাগাজিন করার। ঘুড়ির ইনকামের ২০% এতিম ও দুস্থ শিশুদের জন্য খরচ করা হয়। নিজের সদিচ্ছা ও কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকলে আপনি এখানে ভালো কিছু করতে পারবেন। বর্তমানে নারী উদ্যোক্তা অনেক তবে সফল নারী উদ্যোক্তার অভাব রয়েছে।

ফাতিমা ইসলাম প্রিয়াংকা

GetImage2২০১৫ সালে গ্রাজুয়েশন শেষ করে যখন চাকরি খুঁজছিলাম তখন হঠাত্ করেই মাথায় আসে চকলেট নিয়ে অনলাইন শপ করার। এভাবেই একেবারে ব্যতিক্রম উদ্যোগ “চকলেট ওয়াল্ডের” যাত্রা শুরু। হাতে টিউশনি করে জমানো কিছু টাকা ছিল তা দিয়ে প্রথমে যশোর থেকে আমার এক আত্মীয়র মাধ্যমে কিছু চকলেট আনি। খুব সাড়া পাই। প্রথম মাসেই পেজে ১০ হাজার লাইক পড়ে। পরে বাহিরের বিভিন্ন দেশ থেকে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও মাঝে মাঝে আমি নিজে গিয়ে চকলেট আনি। ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, ইন্ডিয়া, দুবাই, হংকং থেকে চকলেট এনে চকলেট ওয়াল্ড এর পেজের মাধ্যমে বিক্রি করি। বিদেশি অনেক নামিদামি চকলেট, বিস্কুট, চিপস্ এর অনলাইন বাজার এখন চকলেট ওয়াল্ড। চকলেট ওয়াল্ড বাজারের যে কোনো দোকান বা আউটলেটের থেকে এখানে দাম অনেক কম। ইচ্ছে আছে খুব দ্রুত চকলেটের একটা শোরুম দেওয়ার। অনলাইনে ব্যবসার জন্য সাহস ও আত্মবিশ্বাসটা জরুরি। মূলধন কম হলে সমস্যা নেই, ফ্যামিলির সাপোর্ট থাকলে ভালো হয়। অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে যে কোনো নারী।

তাসনিম আফনান তাবাস্সুম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স প্রথম বর্ষ থেকেই চিন্তা আসে কিছু করার। গ্রাজুয়েশন শেষে পরিবার থেকে চাকরি করতে না দিতে পারে এ আশংকা থেকেই উদ্যোগী হই নিজে কিছু করার জন্য। ফেসবুকে দুটো অনলাইন পেজ দেখে উত্সাহ পাই। হাত খরচের পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে শুরু হয় “তাসনিমস অনলাইন শপের” যাত্রা। মেয়েদের সব রকম পণ্যের বাহারী সমাহার এখানে। কামিজ, শাড়ি, থ্রিপিস, ব্যাগ, জুয়েলারী, কসমেটিকস সুলভ মূল্যে পেজে বিক্রি করে থাকি। প্রডাক্টের কোয়ালিটি ভাল রেখে ব্যবসা করলে এখানে সফল হওয়া সম্ভব। এখন প্রতি মাসে গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকে। ইচ্ছে আছে পুরান ঢাকাতে একটা শোরুম দেওয়ার যেখানে শুধু মেয়েরাই কাজ করবে। পাশাপাশি অধিকার বঞ্চিত মহিলাদের নিয়ে কাজ করছি। নারীদের উচিত নিজের জন্য কিছু করা। নিজের পরিচয় ও স্বাবলম্বী হলে নারী সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে।

ফারজানা কবির

নিজের জামা নিজেই ডিজাইন করে বানাতাম। অনেকেই প্রশংসা করত সে উত্সাহ থেকেই নিজের একটা বুটিক দেওয়ার স্বপ্ন দেখি। ২০১৬ সালের জুনে অনলাইনে “উৎসব” নামে নিজের বুটিকের যাত্রা শুরু করি। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি যে এত অল্প সময়ে সাড়া পাব। তবে নিজস্ব ডিজাইন, কাপড়ের মান ও কমিটমেন্টের কারণে কাস্টমারদের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি ভাল আয় হচ্ছে যা টিউশনি করে সম্ভব ছিল না। আমি মূলত কামিজ, কুর্তি, থ্রিপিস, শাড়ি নিয়ে কাজ করছি। ইচ্ছে আছে ব্যবসাটাকে আরো বাড়িয়ে একটা শোরুম দেওয়ার। অনলাইনে মেয়েরা ঘরে বসে নিরাপদে ব্যবসা করতে পারে। তবে স্টুডেন্টদের জন্য এ ব্যবসাটা অনেক উপযোগী। অনলাইন মার্কেটে এখন প্রতিযোগিতা অনেক। এজন্য পণ্যের মান ও কাজের ভিন্নতা আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে আপনার লক্ষ্যে।favicon59-4

Leave a Reply