বাণিজ্য মেলার ৩ ব্যতিক্রমী প্যাভিলিয়ন

বাণিজ্য মেলার ৩ ব্যতিক্রমী প্যাভিলিয়ন

  • আসিফ হোসেন সিয়াম

বাণিজ্য মেলা মানেই ব্যবসার সমাগম। তবে এবারের বাণিজ্য মেলায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি নজর কেড়েছে তিনটি ব্যাতিক্রমী প্যাভিলিয়ন। সেগুলো হচ্ছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, এক্সপোর্ট প্রোমোশোন ব্যুরো (ইপিবি) এবং জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার।

ইপিবি’র উদ্যোগে নির্মিত বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। ছবি: আসিফ হোসেন

পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি প্রধান ফটক দিয়ে বাণিজ্য মেলার প্রবেশ করার সময়েই দর্শনার্থীদের চোখে ধেরা দিয়েছিল ইপিবি’র উদ্যোগে নির্মিত বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। এখানে বরেণ্য শিল্পী হাশেম খানের সম্পাদনায় ‘২৬ চিত্রে শেখমুজিব’ ছিল সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। চিত্রগুলোতে ছিল জাতির জনকের খোকা জীবন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বদেশে ফিরে আসার গল্প। এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তার রাখা হয়েছিল বেশ কয়েকটি আলোকচিত্র ও সাতটি তথ্যচিত্র। বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক মুহূর্ত থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো দেখানো হয়েছে আলোকচিত্রে এবং তথ্যচিত্রে প্রদর্শিত হয়েছে ৭ মার্চের ভাষণ থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর জাতির পিতা হওয়ার যাবতীয় গল্প। দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা আগামীতেও এই প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার কথা ভাবছেন। প্যাভিলিয়নের প্রবেশ পথে জাতির জনককে নিয়ে রচিত কিছু বইও দেখা যায় প্রদর্শনীতে।

বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের পাশেই ছিল এক্সপোর্ট প্রোমোশনাল ব্যুরো (ইপিবি)। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পরিস্থিতি দেয়ালিকার মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে এখানে। যেমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন, বাইসাইকেল রপ্তানি, নিট গার্মেন্ট ও হস্তশিল্পের বাণিজ্য প্রভৃতি। এছাড়া গুটি কয়েক বর্ণনাচিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে ২০১৬-১৭ সালে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি উপাদানসমূহ, তাদের শতকরা হিসাব ইত্যাদি। ইপিবি’র সেবার মধ্যে অন্যতম ছিল ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবস্থা। এর সাহায্যে দর্শনার্থীরা খুব সহজেই মেলার কাঙ্ক্ষিত স্থান খুঁজে পেয়েছেন।

নজরকাড়া আরেক প্যাভিলিয়নের নাম বিজেএমসি। ‘আমার পাটের দাম নাই … তোমরা মনে করেছ আমরা গরীব। আমার মাটি আছে, আমার সোনার বাংলা আছে, আমার পাট আছে । যদি ডেভেলপ করবার পারি তবে ইনশাআল্লাহ এ দিন আমাদের থাকবেনা’—বঙ্গবন্ধুর এই আশাবাদী উক্তিকে সম্মুখে রেখে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) আয়োজন করেছিল পাটজাত পণ্যভিত্তিক পাশাপাশি দুইটি প্যাভিলিয়ন। পাটের তৈরি ব্যাগ, ঘর সাজানোর পণ্য, পাট পাতার চা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য রাখা ছিল এই স্টলে বিক্রি বা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে।

প্রদর্শনী দেখতে আসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বিজেএমসি পাটপণ্যের ডাইভারসিফিকেশনের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। এতে পাটপণ্য দেশে-বিদেশে আরো সমাদৃত হবে।’

এই প্যাভিলিয়নের দেয়ালিকায় তালিকাকারে দেয়া ছিল বাংলাদেশে পাটের ইতিহাস এবং পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ সম্পর্কিত তথ্য। প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে পাট বোনার একটি সক্রিয় যন্ত্রও রাখা ছিল এখানে।

Leave a Reply